-->

রেড মিট কতটুকু খাবেন, কীভাবে খাবেন

রেড মিট কতটুকু খাবেন, কীভাবে খাবেন

রেড মিট কতটুকু খাবেন, কীভাবে খাবেন



রেড মিট কতটুকু খাবেন, কারো মনে এমন প্রশ্ন আসতেই পারে, ধরুন কারও ওজন যদি হয় ৬০ কেজি, তাহলে দিনে তিনি ৬০ গ্রামের মতো প্রোটিন খেতে পারবেন। মাংস হলো প্রোটিনের উৎস, অর্থাৎ এটি হলো প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। স্বাভাবিক মানুষ যে পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে, কোন শারীরিক অসুস্থতা থাকলে সে পরিমাণে তিনি খেতে পারবেন না, অর্থাৎ কিডনি রোগসহ বিশেষ বিশেষ রোগ থাকলে অন্য কথা। আবার মেয়েদের ঋতুচক্র হলে ও গর্ভাবস্থায় এই প্রোটিনের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পায়, তাই এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়।


চলুন জেনে নেওয়া যাক মাংস কি পরিমাণ প্রোটিন থাকে, প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মাংসে প্রায় ২৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। প্রতি 100 গ্রাম লাল মাংস ২.৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে।

এ রকম হিসাবে সেই ব্যক্তির ২৬০ গ্রামের মতো প্রতিদিন লাল মাংস খাওয়ায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয় কিন্তু সমস্যা হল আমরা খাবারের সময় অন্যান্য উৎস থেকেও প্রোটিন গ্রহণ করে থাকি। প্রোটিনের অন্য সব উৎস বাদ দিয়ে প্রতিদিন তিনি যদি শুধু ২৬০ গ্রাম লাল মাংস খেলে আপনার জন্য মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এজন্য প্রোটিনের অন্যান্য উৎস বাদ দিয়ে শুধু রেড মিট থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত নয়।

প্রতিদিন ১০০ গ্রামের বেশি রেড মিত বা লাল মাংস খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বা স্বাস্থ্যের অনেক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ সহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ হতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত লাল মাংস সেবনের ফলে নানা ধরনের গ্যাস্টিকের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে। 

লাল মাংস থাকা বিশেষ বিশেষ কিছু উপাদান যেমন ইনফ্ল্যামেটরি যৌগ আমাদের পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র তে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।


বাজারে বিভিন্ন ধরনের রেড মিট পাওয়া যায় যেমন কাচা রেডমিট এবং আরেকটি হল প্রক্রিয়াজাত রেডমিট। টাটকা লাল মাংসের চেয়ে আপনি যদি প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস খান তাহলে তা আপনার জন্য আরও বেশি ক্ষতিকারক। 

দৈনিক ৫০ গ্রামের বেশি প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। 


একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৭০ গ্রামের বেশি রান্না করা মাংস খাওয়া ঠিক হবে না, আমরা যেভাবে মাংস কেটে থাকি, একটি বড় টুকরা রেড মিট এ ২০ গ্রাম মাংস থাকে প্রায়। গরুর মাংস বা রেড মিট খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো সপ্তাহে দুই দিন মাংস খাওয়া, এবং প্রতি বেলায় ঘরে রান্না করা মাংস দুই বা তিন টুকরার বেশি খাওয়া উচিত হবে না।

৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের চাহিদা অনুযায়ী ৩-৪ আউন্স পর্যন্ত মাংস খাওয়া যাবে এবং এভাবে সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিন খাওয়ানো যাবে। তবে বিভিন্ন উৎসবে বা অনুষ্ঠান হলে শিশুরা যেহেতু ইচ্ছেমতো মাংস খেয়ে থাকে, তাই তাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল ও পানি থাকা প্রয়োজন সেটা প্রত্যেক অভিভাবকের খেয়াল রাখা উচিত। রেড মিত খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং ফলমূল ও পানি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকে একবারে অনেক বেশি মাংস বা রেট মিট কনজিউম করে থাকে যা পরবর্তীতে তার বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে তাই রেডমিট খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।


বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, ইউরিক অ্যাসিডের আধিক্যসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকলে রেড মিট খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

সঠিক উপায়ে রেড মিট রান্না করলে অনেক শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়, বা এটাকে স্বাস্থ্যকর বলা যায়। তেমনি কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক:

মাংসের গায়ে লেগে থাকা দৃশ্যমান চর্বি বাদ দিতে হবে এবং কম তেলে রেড মিট রান্না করতে হবে।

রান্নার আগে ৫-১০ মিনিট মাংস সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে, এতে করে চর্বির অংশ ঝরে যায় এবং এই মাংসকে উচ্চতাপে রান্না করতে হবে।

মাংসে চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব, যদি  রান্নার সময় ভিনেগার, টক দই, লেবুর রস ইত্যাদি  ব্যবহার করা যায় তাহলে সাপ কিছুটা বাড়ে আর সেই সাথে ক্ষতিও কিছুটা কম হয়।


যাঁদের উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা আছে, তাদের রেড মিট এড়িয়ে চলা ভালো আর যদি তাঁরা একেবারেই না এড়াতে পারেন এক–দুই টুকরা খেতে পারেন, এমনটাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবার সরাসরি মাংস না খেয়ে এর সঙ্গে সবজি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। 

আসলে রেডমিট অনেক সুস্বাদু হয় তাই অনেকেই এর লোভ সামলাতে পারেন না, তবে যদি এটি আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হয় তাহলে তা এড়িয়ে চলা ভালো।