-->

আচারের তেল খাওয়া কি ভালো?


আচারের তেল খাওয়া কি খারাপ?


আচারের তেল খাওয়া কি ভালো? জানেন কি?

আমাদের দেশে সাধারণত আচারে শর্ষের তেল ব্যবহার করা হয় আর পরিমিত পরিমাণে শর্ষের তেল খাওয়া খুব মন্দ নয়। আচার এর তেলের সঙ্গে মিশে থাকে আচারে ব্যবহৃত নানা ধরনের মুখরোচক মসলা। 

আচার এর তেল ব্যাবহার আপনি মসলার উপকারিতাও পেয়ে যাবেন। আচারের তেল থেকে আচার তুলে নিয়ে বা আচারের সঙ্গে আপনার পাতে খানিকটা তেল উঠে এলেও খেয়ে নিতে পারেন, কিন্তু আচারের তেল কখনো পুনরায় রান্নায় ব্যবহার করা উচিত নয় এ কথা মনে রাখতে হবে আপনাকে।


আচারে ব্যাবহৃত বাড়তি তেল কীভাবে খাওয়া ভালো জানেন?

আচারের মূল উপাদান শেষ হয়ে এলেও এর মধ্যে বাড়তি তেল থাকে কারণ আচার গুলো তেল এর মাঝে ডুবানো থাকে। এই তেল খুব মজাদার হয় আর এই তেল ব্যবহার করতে পারেন সালাদ ড্রেসিং হিসেবে বা মুড়ি মাখাতে। বিকেলে বা নাস্তায় মুড়ি-চানাচুর মাখিয়ে খাবেন আচারের তেল দিয়ে। মাখিয়ে ফেলুন, আর দারুণ স্বাদ উপভোগ করুন মসলা সহ এই তেল। 

আরো অনেক কিছু যেমন ভাত, পাস্তা, সবজির গ্রিল, সবজি সেদ্ধ কিংবা ডিমভাজি, খিচুড়ি ইত্যাদি পরিবেশনের সময় তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন সুস্বাদু এই তেল। সামান্য আচারের তেল আপনার খাবার এর স্বাদ বাড়বে অনেক গুণ আর এর স্বাদে, ঘ্রাণে আপনার খাবার টেবিলের পরিবেশটাই বদলে যাবে।


আচারের তেল থেকে যেসব উপকার পাবেন:

আচারের তেলে আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট যা আপনার জন্য উপকারী আর এ তেল গ্রহণে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা।

মেথি চুল এর জন্য বেশ উপকারী আর যে আচারে মেথি ব্যবহার করা হয়েছে, তা খেলে আপনার চুলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আচারে অনেক মসলা থাকে আর যে আচারে আদা বা জিরা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই তেল আপনার হজমে সহায়ক হতে পারে।

রসুন বা হলুদমিশ্রিত আচারের তেল বেশ উপকারে আসতে পারে কারণ দেহের কোনো অংশে প্রদাহ থাকলে তা উপশমে কাজে দেয় এই তেল।



খেয়াল রাখুন তেল ব্যাবহার এর সময়:

আচার বা আচারের তেল কোনোটিই খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয় বা খাবেন না, এর কারণ আচারে অন্যান্য মসলার পাশাপাশি বেশ লবণ ও চিনিও ও অন্যান্য ঝাল মসলা দেওয়া হয়, তাই আচার বা আচারের তেল দিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস বানিয়ে ফেলাও ঠিক নয়।


রান্নায় আচারের স্বাদ:

জানলেন, আচারের স্বাদ আনতে কীভাবে আচারের তেল ব্যবহার করা যায় এবং সেটা খাবার রান্না করার পর। কিন্তু রান্নায় যদি আচারি ঘ্রাণ আনতে চান সেটা আলাদা। এ ক্ষেত্রে আচারের তেল কাজে লাগাতে যাবেন না যেন, তার চেয়ে বরং রান্নায় যে তেল ব্যবহার করছেন, তার মধ্যে মিশিয়ে নিন আচারে ব্যাবহার করা নানান রকম মসলা। 

এমনটি করলে স্বাদে বৈচিত্র্য আসবে, স্বাদ বাড়বে আর স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকবে না।  

আচারে ব্যবহৃত তেল রান্নায় দিলে তা কেবল মুখরোচকই হবে। কিন্তু এই তেল স্বাস্থ্যসম্মত হবে না মোটেই। আচারে যদি কাঁচা তেল ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই তেল পরে রান্নায় ব্যবহার করা যাবে কি না, এমনটি কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। 

আসল বিষয়টা হলো, আচারের মসলা এবং অন্যান্য উপাদান তেলের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তেলের বৈশিষ্ট্য অনেকটাই বদলে যায়, সে আচার যেভাবেই তৈরি করা হোক না কেন। এই জন্য কোনো কারণেই আচার এর তেল আর কোনো রান্নার সময়ই ব্যবহার করা আপনার উচিত নয়, অর্থাৎ এটা না করা ভালো।