দিনে কতটুকু পানি খাবেন
আমাদের শরীরের মোট ওজনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পানি আর মানবদেহের মোট ওজনের 70% পানি। জন্মের সময় এই পানির পরিমাণ থাকে প্রায় ৭৫ % এবং বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই পানি কমতে থাকে, তারপর বৃদ্ধ বয়সে এসে এই পানির পরিমাণ হয় ৫৫%।
আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন
- রক্তের ৮৩ শতাংশ,
- মস্তিষ্কের ৭৪ শতাংশ পানি,
- এমনকি হাড়ের ২২ শতাংশ পানি দিয়ে তৈরি।
আর এ কারণেই ছয়টি সুষম খাবারের অন্যতম একটি উপাদান পানি, এছাড়া আমরা ক্রমাগত ঘাম, প্রস্রাব, গরম পরিবেশ, শ্বাস–প্রশ্বাস ও নানা শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে পানি আমাদের বডি থেকে বের হয়ে যায়। আমাদের শরীরে পানি জমা রাখার খুব একটা ব্যবস্থা নেই, তাই প্রতিদিন বের হয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি মেটাতে আমাদের পানি খেতেই বা খরচ হয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি মেটাতে পানি খেতে হয়।
আট গ্লাস পানি কি সবার জন্য খেতে হবে?
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন দেড় থেকে সাড়ে তিন লিটার অর্থাৎ ৬-১৪ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন, এই তথ্য জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুসারে জানা যায় ।
দৈনিক আট গ্লাস পানি খাওয়ার কথা আমরা নিশ্চয়ই অনেকবার শুনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে, এবং এটা একটা সাধারণ ধারণা বা সার্বিক ভাবে গড় ধারণা। আসলে অনেকগুলো বিষয় এর ওপর নির্ভর করে কতটুকু পানি খাবেন, অর্থাৎ সেটা একক বিষয়ের উপর নির্ভর করে না, সেগুলো হলো:
১. শরীরের ওজন:
অনেকের ওজন বেশি, আপনার ওজন বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার শরীরে পানির চাহিদাও বেশি হবে, এটা সাধারণ ভাবে বুঝে নেওয়া যায়।
২. আপনার বয়স:
ছোট বয়সে ওজন কম আর তাইপানির চাহিদা কম থাকে, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চাহিদা বাড়বে, আবার একটা নির্দিষ্ট বয়স এর পর থেকে এই চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে থাকে আমাদের।
৩. কাজের ধরন এর ভিন্নতা:
আপনি যদি বেশি পরিশ্রমের কাজ করেন, তাহলে আপনাকে পানি খেতে হবে বেশি। বেশি খেতে হবে, যাঁরা টেবিল এর সামনে বসে কাজ করেন, সে সব মানুষ এর তুলনায় বেশি। একজন কৃষক আর একজন বাড়িতে বসে থাকা মানুষের পানি খাওয়ার চাহিদা এক নয় বা হতে পারে না, আর খেলোয়াড়দের পানির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি হয়।
৪. শরীরচর্চা:
শরীরচর্চার মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় কারণ কায়িক পরিশ্রম এর ফলে অনেক ঘাম হয়, তাই পরিশ্রমের আগে ও পরে বেশি করে পানি খেতে হবে আমাদের।
৫. ডায়েট লক্ষ করুন:
বিভিন্ন রকম ডায়েটে বিভিন্ন মাপে পানি খাওয়ার প্রয়োজন হয়, কারণ বিভিন্ন ডায়েটে এ পানির চাহিদা ভিন্ন হয়, তাই এরকমটি পরামর্শ দেন ডায়েটেশিয়ানরা।
৬. পরিবেশ ও আবহাওয়া:
তাপমাত্রা বেশি থাকলে বা গরম কালে পানির চাহিদা হয় বেশি স্বাভাবিকভাবেই, এর কারণ শরীর থেকে পানি ফুরিয়ে যায় দ্রুত আবার শীতকালে পানির চাহিদা কম থাকে বিপরীতে।
৭. গর্ভবতী বা সন্তানকে দুধ পান করানো মা:
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি পান করতে হবে, যদি গর্ভাবস্থায় বা সন্তানকে দুধ পান করান আপনি, কারণ এ সময় পানির চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
৮. শাকসবজি, ফলমূল:
আমাদের শরীরে পানির চাহিদার একটা বড় অংশ আসে নিচের খাবার থেকে
- ফল,
- শাকসবজি,
- তরকারি,
- চা,
- কফি,
- ডাবের পানি
এগুলো থেকে। তাই এগুলো যদি আপনি না খেয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে পানি বেশি খেতে হবে।
৯. কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে এসি আছে কি না:
কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে এসি চললে আমাদের শরীরে পানির চাহিদা কম থাকে আর বাইরে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে।
পানি কম খেলে আপনার পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, তাই পানিশূন্যতায় শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা থেকে শুরু করে মাথাধরা সহ অনেক শারীরিক সমস্যা। আরো হতে পরে মনোযোগের ঘাটতি, ক্লান্তি, অবসাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীর শুষ্কতা, প্রস্রাবে সংক্রমণ।
.jpg)
Post a Comment