-->

আমলকীর উপকারী গুণ ও ভেষজ গুণ

আমলকীর উপকারী গুণ ও ভেষজ গুণ

আমলকীর উপকারী গুণ ও ভেষজ গুণ


আমলকীর অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে যার ফল ও পাতা দুটিই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় অতি প্রাচীনকাল থেকে। আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও অনেক উপকারী ভিটামিন থাকে এবং  পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে আমলকীতে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

এছাড়া আমলকী খুবই উপকারীঃ

  • পেটের পীড়া, 
  • সর্দি, 
  • কাশি 
  • রক্তহীনতার 

আমলকী ফলটি লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে বিবেচিত এবং অনেকে এটি রোজ খেয়ে থাকেন। আমলকী, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়, এবং এ তিনটি শুকনো ফল একত্রে রাতে ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যায়। আমলকী, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে সকালবেলা শরবত হিসেবে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়, তবে ছেঁকে খালি পেটে খেতে হবে।

আমলকী বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে ব্যবহার হয় এবং কাঁচা বা শুকনো আমলকী বেটে  মাথায় লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। 

কাঁচা আমলকী ছুলের জন্য উপকারী, যেমন এটি বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দুতিন ঘণ্টা রেখে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এভাবে আমলকী একমাস মাখলে উপকার পাবেন-

  • চুলের গোড়া শক্ত, 
  • চুল উঠা
  • তাড়াতাড়ি চুল পাকা বন্ধ

আমলকীতে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছেঃ

  • কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, 
  • আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, 
  • আমের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি, 
  • কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি । 


আমলকী এর যত গুনঃ

একজন মানুষের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার যা দুটো আমলকী খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমলকী খেলে মুখে রুচি বাড়ে এবং সেই সাথে দন্তরোগ সারাতে আমলকী ফলের জুড়ি নেই। 

আমলকী হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক এবং এর মাঝে প্রচুর ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ। আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা বিভিন্ন অসুখ সারানোতে ভুমিকা রাখে। এ ছাড়াও আমলকী  রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও দারুণ সাহায্য করে আর আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এর নির্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।


আমলকী খাওয়ার উপকারিতা

  • আমলকীতে যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, কারণ এটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ যা ফ্রি র্যাডিকালস প্রতিরোধ করে। 
  • আমলকীতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা ত্বক, চুল ও চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী।
  • আমলকী হজমে সাহায্য করে এবং হজম এর জন্য উপকারী।
  • আমলকী শরীর ঠাণ্ডা রাখে, এবং লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে। সেই সাথে আমাদের দাঁত ও নখ ভালো রাখে।
  • আমলকীর জুস দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্য উপকারী সেই সাথে এটি পেটের জ্বালা জ্বালাভাব কম রাখে এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। 
  • আমলকীর খিদে বাড়াতে সাহায্য করে আমলকী গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে থেকে পারেন।
  • আমলকী লিভার ভালো রাখে, ব্রেনের কার্যকলাপে সাহায্য করে এবং ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে। ফলে এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • আমলকী হার্ট সুস্থ রাখে এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।